বাল্যকালের বন্ধু শুভ্রার ঢাকায় আগমন

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শুভ্রা সিকদার, বাল্যকালের বন্ধুদের মধ্যে সব থেকে প্রিয় নাম। ঝগড়া, খুঁনসুটি আর অনেকটা ভালোবাসায় কেটেছিল আমাদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শেষের দিনগুলো। শুভ্রার সাথে সব থেকে মজার কিছু সময় কেটেছিল আমার জীবনের প্রথম স্কাউট ক্যাম্প এ। বরিশাল বিভাগ এর পিরোজপুর জেলায় জীবনে প্রথম বার এর মতো স্কাউট ক্যাম্প এ গিয়েছিলাম ২ জন শিক্ষক (১ জন শিক্ষক ও ১ জন শিক্ষিকা) । সর্বমোট ৩ দিনের আয়োজন ছিল যা স্মৃতির পাতায় আজ ও রয়ে গেছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গন্ডি পেরিয়ে নাজিরপুর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হলাম। শুভ্রার বাবা পেশায় গ্রামীণ ব্যাঙ্ক এর কর্মকর্তা ছিলেন। ২০০৫ এর পর তার বদলি হলো, যত দূর মনে আছে তাতে সম্ভবত ওনার বদলি হয়েছিল যশোর অথবা খুলনায়। বাবার বদলির সাথে শুভ্রা ও আমাদের নাজিরপুর ছেড়ে চলে গেলো। হারিয়ে ফেললাম জীবন থেকে এক বন্ধুকে।

শুভ্রা আমাদের ভুলে গেলেও আমার মন থেকে শুভ্রা কোনো দিন ও হারিয়ে যায় নাই। ২০১০ এর পর শুভ্রা কে অনেক খুঁজেছি, কিন্তু কার ও কাছে শুভ্রার কোনো তথ্য ছিলোনা। ওর বাবার কর্মস্থল এ বেশ কয়েকবার খোঁজ নিয়েও কোনো লাভ হয় নাই। ২০১২ থেকে শুভ্রা কে খোঁজা শুরু করলাম সোশ্যাল মিডিয়া তে। ফেইসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, গুগল প্লাস কিছু ই বাদ দেই নাই। যথেষ্ট ব্রিলিয়ান্ট ছিল শুভ্রা, সম্ভবত সোশ্যাল মিডিয়া তে নষ্ট করার মতো সময় তার ছিলোনা। তবে আমি ও নাছোড় বান্দা ছিলাম, যে করে ই হোক, শুভ্রা কে খুঁজে বের করবো। ছোট বেলার বন্ধু কে এই ভাবে হারিয়ে যেতে দিতে পারিনা।

২০১৭ সালের নভেম্বর মাসের ৭ তারিখ ভোর ৩:২৫ এ ফেইসবুক এ খুঁজে পেলাম শুভ্রা সিকদার কে। প্রোফাইল পিকচার দেখে নিশ্চিত ছিলাম এটা সেই শুভ্রা। তাই ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট দিয়ে মেসেঞ্জার ও অ্যাড রিকোয়েস্ট দিলাম। শুভ্রার প্রোফাইল ঘেটে পেলাম সে খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (KUET) এর শহুরে এবং আঞ্চলিক পরিকল্পনা (Urban and Regional Planning) এর শিক্ষার্থী। দেরি না করে ক্যামব্রিয়ান এর বন্ধু সৌরভ কে কল দিয়ে শুভ্রার খোঁজ নিয়ে ওর ফোন নম্বর জোগাড় করতে বললাম। সৌরভ ও খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় এর টেক্সটাইল এর শিক্ষার্থী।

সন্ধ্যার মধ্যে জোগাড় হয়ে গেলো শুভ্রার ফোন নম্বর। অনেক দিন পর পুরাতন বন্ধুকে খুঁজে পেয়ে কিছুটা এক্সসাইটমেন্ট কাজ করছিলো নিজের মধ্যে। অবশেষে খুঁজে পেলাম শুভ্রা কে।

শুভ্রা কে খুঁজে পাওয়ার পর আমি ও বেশ কিছুটা ব্যস্ত হয়ে পড়লাম, বেশ কয়েকবার প্ল্যান করেও ও খুলনাতে যাওয়া হলো না। অবশেষে শুভ্রা ঢাকাতে এলো। ২৬ জানুয়ারি ২০১৮ সকাল ৯:৩০ এ শুভ্রার ফ্লাইট যশোর থেকে ঢাকা। বেশ খানিকটা উত্তেজনা কাজ করছিলো নিজের মধ্যে শুভ্রার সাথে দেখা হবে এটা ভেবে। আমি সকাল ৯:৩০ এ পৌঁছে গেলাম ঢাকা বিমানবন্দরে অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল এ, কারণ যশোর থেকে ঢাকা মাত্র ৪০ মিনিট এর দূরত্ব। গিয়ে বুঝলাম ওর পৌঁছাতে দেরি হবে। যাই হোক, অবশেষে অপেক্ষার পালা শেষ হলো। সকাল ১০:৫০ এ শুভ্রা এসে পৌছালো ঢাকা বিমানবন্দরে। দেখা হলো শুভ্রার সাথে।

শুভ্রা পৌঁছানোর পর ওর আর এক বন্ধু অমি ও এসে পৌছালো। এই বার আমাদের অপেক্ষার পালা অন্য আর এক জনের জন্য। তিনি হলেন আমাদের দাদাবাবু সম্রাট দা। তিনি আসছেন অস্ট্রেলিয়া থেকে। বাংলাদেশ এ পৌঁছাবেন দুপুর ১ টায়। সময় পার করার জন্য আমরা ঘুরতে বের হলাম। প্রথমে উত্তরা আজমপুর এর হিমালয় রেস্টুরেন্ট আর সেখান থেকে বের হয়ে আমরা রাজলক্ষ্মী আসলাম। দাদার জন্য ফুল কিনে হাটতে শুরু করলাম সামনের দিকে। উত্তরা জসীমউদ্দীন এর কাছে এসে আমরা তিন জন (আমি, শুভ্রা ও অমি) গিয়ে বসলাম বি.এফ.সি তে। সেখান এ আবার ও হালকা নাস্তা। এর ভিতরে দাদা পৌঁছে গেলেন বাংলাদেশ বিমানবন্দরে। আমরা রওনা দিলাম বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে।

বিমানবন্দরে পৌঁছে দাদার বাইরে আসার অপেক্ষা। সে পৌঁছে গেলেও তার লাগেজ পৌঁছায় নাই। অপেক্ষার প্রহর যেন আর শেষ ই হয় না। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর অবশেষে দাদা বের হলেন বিমানবন্দরের টার্মিনাল-১ থেকে।

দাদা’র এক ভাই ও এসেছিলো ওখানে। অমি চলে যাবে আর দাদার ফ্রেশ হওয়া দরকার ছিলো। তাই আমরা রওনা দিলাম বসুন্ধরার উদ্দেশ্যে। পরিকল্পনা হলো, আমি আর শুভ্রা দাদার জন্য অপেক্ষা করবো যমুনা ফিউচার পার্ক এ, আর দাদা যাবেন তার লাগেজ রাখতে ও ফ্রেশ হতে তার দিদার বাসায়। যেই পরিকিল্পনা, সেই কাজ। আমরা রয়ে গেলাম আর দাদা ও দাদা ভাই জ্যোতি চলে গেলেন দাদার দিদার বাসায়।

প্রায় ১ ঘন্টা আমি আর শুভ্রা ঘুরে দেখলাম যমুনা ফিউচার পার্ক, অবশেষে দাদা এলেন। শুভ্রা, দাদা ও জ্যোতি দা কে বিদায় জানিয়ে আমি চলে আসলাম মিরপুর। বিশেষ একটা কাজ এর জন্য আমাকে চলে আসতে হলো।

ছোট বেলার বন্ধুদের ভোলা যায় না। শুভ্রা আর আমার ঝগড়া হতো সব থেকে বেশি আর তাই হয়তো ও আমার সব থেকে ভালো বন্ধু। শুভ্রার আগামী দিনের পথ বলা সুখের হোক। বর্তমানে শুভ্রা খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (KUET) এর শহুরে এবং আঞ্চলিক পরিকল্পনা (Urban and Regional Planning) বিভাগ এর শিক্ষিকা। শুভ্রার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ আমি সর্বদা কামনা করি।

Comments

comments

Leave a Reply